জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রবিবার একটি কমিটি সুপারিশ করেছে, স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞান সিলেবাস থেকে মহম্মদ আলি জিন্নাহ, স্যার সৈয়দ আহমেদ খান এবং মহম্মদ ইকবাল সংক্রান্ত বিষয়গুলি বাদ দেওয়া হোক। এই সিদ্ধান্তের প্রস্তাব ঘিরে শিক্ষা মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিভাগের ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি এখন বোর্ড অফ স্টাডিজের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ এই বিষয়ে বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত পাঠ্যক্রমে জিন্নাহর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর কোর্সে “সংখ্যালঘু ও জাতি” শিরোনামের একটি অধ্যায়ে জিন্নাহর নাম থাকায় আপত্তি তোলে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনের দাবি, এইভাবে জিন্নাহকে উপস্থাপন করলে তাঁকে ভারতের সংখ্যালঘুদের নেতা হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়।
গত শুক্রবার এবিভিপির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই উপাচার্য উমেশ রায় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নরেশ পড়ার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সিলেবাস খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক সন্নক শ্রিবাস্তব জানান, আগে “দুই জাতি তত্ত্ব” অধ্যায়ে জিন্নাহর নাম থাকলেও সংশোধিত সিলেবাসে তাঁকে “সংখ্যালঘু ও জাতি” অধ্যায়ে স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে জিন্নাহর ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলেই তাঁদের দাবি।
শুধু জিন্নাহ নন, কমিটি স্যার সৈয়দ আহমেদ খান এবং মহম্মদ ইকবালের বিষয়গুলিও সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। স্যার সৈয়দকে অনেকেই “দুই জাতি তত্ত্ব”-এর অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ হিসেবে মনে করেন। অন্যদিকে, ইকবাল পাকিস্তানের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান বলজিৎ সিং মান আগেই জানিয়েছিলেন, পাঠ্যক্রমে জিন্নাহ বা অন্যান্য চিন্তাবিদদের অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণ একাডেমিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এবং ইউজিসি-র নিয়ম মেনেই এই বিষয়গুলি রাখা হয়েছে। কোনও বিশেষ মতাদর্শ প্রচার করার উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই, বরং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ বিতর্কে জড়িয়েছিল। ২০১৮ সালে এক অধ্যাপকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যেখানে তিনি বিপ্লবী ভগত সিংকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই অধ্যাপককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। যদিও পরে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।


