উত্তরপ্রদেশের সাম্ভল জেলার এক যুবককে অন্তর্বর্তী আগাম জামিন দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সাম্ভলে হওয়া হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ আলমকে ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জিতেন্দ্র কুমার সিনহা। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে এই মামলায় পাল্টা হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশ আসে এমন এক সময়ে, যখন সাম্ভলের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আগেই পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই হিংসার সময় কোনও উসকানি ছাড়াই পুলিশের গুলিতে জখম হন মহম্মদ আলম। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী এবং কোতোয়ালি থানার ওসি অনুজ কুমার তোমর।
যদিও আদালতের এই নির্দেশের পরেও আলমের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, খুনের চেষ্টা ও সরকারি কর্মীর উপর হামলার মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আলমের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং প্রথম এফআইআরেও তাঁর নাম ছিল না। পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলম পুলিশের গুলিতে আহত হননি। এ বিষয়ে আরও সময় চেয়ে আদালতে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার আবেদন করে সরকার। সেই আবেদন মঞ্জুর করে হাই কোর্ট আপাতত আলমকে সুরক্ষা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর সাম্ভলের জামা মসজিদ এলাকায় আদালতের নির্দেশে একটি সমীক্ষা চলাকালীন হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গুলিতে অন্তত পাঁচজন মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার তদন্ত ও দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নতুন করে এই মামলা ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে।


