সারদা চিটফান্ড মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পেতে চলেছেন। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি রয়েছেন। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট-এর বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে তাঁর মুক্তির পথে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
আদালত অবশ্য জামিনের সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দিয়েছে, যা মেনে চলতে হবে সুদীপ্ত সেনকে। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই, সম্ভবত বৃহস্পতিবার, তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের দায়ের করা বহু মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছিলেন। তবে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে থাকা দুটি মামলার জন্যই এতদিন তাঁকে জেলে থাকতে হচ্ছিল।
এই জামিনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাই এ নিয়ে আলাদা করে মন্তব্য করার কিছু নেই।
উল্লেখযোগ্য, ২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর সুদীপ্ত সেন তাঁর সহযোগী দেবযানী মুখার্জিকে সঙ্গে নিয়ে সোনমার্গ-এ আত্মগোপন করেছিলেন। পরে সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকেই তাঁরা জেলে ছিলেন। বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষ এই সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে সিবিআই ছাড়াও ইডি এবং সেবিও তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনার পর আবারও সারদা কাণ্ড নিয়ে জনগণের দরবারে চর্চা বেড়েছে।


