পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চরম বিস্ফোরক দাবি করলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলের অস্তিত্বই আর থাকবে না। শাসক শিবিরের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছেন। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবুজ সংকেত দিলেই এই বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধি তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেবেন বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবার অনুমতি দিলেই তৃণমূল দলটা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যাবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়েই ৫০ জন বিধায়ক ও ২০ জন সাংসদ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মন্তব্যের পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন সৌমিত্র। তাঁকে ‘পাপী’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পাপীদের শাস্তি পেতেই হবে এবং খুব দ্রুত তারা জেলে যাবে। যদিও সৌমিত্র খাঁর এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন।
তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের ভেতরে যে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তার ওপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলিদেবী সহ একাধিক বিরোধী বিধায়কের উপস্থিতি জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের প্রশাসনিক বৈঠকেও তৃণমূলের ১৩ জন বিধায়ক হাজির হয়ে নতুন সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলর ও পুরপ্রধানদের গণ-ইস্তফা এবং নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরিভুরি অভিযোগে তৃণমূল এখন ব্যাকফুটে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই বিজেপি সাংসদের এই দলবদলের দাবি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।


