আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে এক তৃণমূল নেত্রীর স্বামীকে ঘিরে ধরে গণধোলাই দিলেন গ্রামের মহিলারা। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার কৌতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে প্রকৃত গরিব মানুষদের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে অন্য লোকেদের ঘর পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৌতলা পঞ্চায়েতের প্রধান যমুনা হালদার হলেও এলাকার সমস্ত কাজকর্ম মূলত দেখাশোনা করতেন তাঁর স্বামী বাপ্পা হালদার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকার সাধারণ মানুষকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছিলেন বাপ্পা। বুধবার তিনি কৌতলা ১৬৬ নম্বর বুথের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই গ্রামের মহিলারা তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ক্ষুব্ধ মহিলারা বাপ্পা হালদারের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। বেগতিক বুঝে নিজের স্কুটিটি অকুস্থলেই ফেলে রেখে কোনওরকমে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বাঁচেন প্রধানের স্বামী।
এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর গায়েন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আবাস যোজনার ঘরের প্রথম কিস্তির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই বাপ্পা হালদার তাঁর কাছে এসে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। গরিব মানুষ হওয়ায় অনেক কষ্টে সেই টাকা জোগাড় করে তিনি বাপ্পার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। মঞ্জুশ্রী দাস নামে অন্য এক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, গ্রামে যাঁদের মাথার ওপর পাকা ছাদ রয়েছে বা যাঁদের ঘরের কোনও প্রয়োজন নেই, টাকা নিয়ে তাঁদেরই আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রকৃত উপভোক্তারা বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত হয়ে পড়ে রয়েছেন। এই দুর্নীতির টাকা ফেরত চাওয়ার জেরেই এদিন মহিলারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্ত নেতা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রায়দিঘি জুড়েই এখন রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।


