বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবশেষে সেদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই শুভেচ্ছা বার্তার আড়ালে আসলে বাংলাদেশে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক জমি ও প্রভাব ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লির বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদির পাঠানো এই চিঠির কথা জানানো হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, ‘মানবতার স্বার্থে ও দু’দেশের মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ভারত।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে মোদি লিখেছেন, এই উৎসব ভারতের কোটি কোটি মুসলিম মানুষের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতীক। ইদুজ্জোহা ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেয় এবং এই ত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে প্রতিনিয়ত যখন সংখ্যালঘুদের ওপর নানা অবিচারের অভিযোগ উঠছে, তখন ওপার বাংলায় ইদের শুভেচ্ছা পাঠিয়ে মোদি সরকারের এই ‘উদারতা’ দেখানোর চেষ্টা আসলে এক চরম দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যেভাবে দিল্লির বিজেপি সরকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, তাতে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এখন তারা বাধ্য হয়েই তারেক রহমানের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে।
চিঠির শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করার পাশাপাশি ওপার বাংলার মানুষের সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এতদিন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একপেশে নীতি নিয়ে চলার পর, এখন নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে দিল্লির এই তোষামোদের রাজনীতি কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।


