শিশু পাচার ও ধর্ষণকারী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ্যে আসার পরেই ব্রিটেনের রাজনীতির পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল লেবার পার্টির ভেতরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তার জেরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর গুঞ্জন, নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে যে কোনও সময়।
দলের একাধিক প্রবীণ নেতা নাকি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে নতুন মুখ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে স্টারমার সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সে ক্ষেত্রে শাবানা মাহমুদ দেশের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়তে পারেন।
এই সংকটের পেছনে রয়েছে ওয়াশিংটনে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত পদে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক। অতীতে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবর সামনে আসতেই দলের অন্দরেই অসন্তোষ বাড়ে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী পদত্যাগ করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। জনমত সমীক্ষায়ও লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কমেছে বলে জানা গেছে।
৪৫ বছর বয়সি শাবানা মাহমুদ পেশায় আইনজীবী এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ২০১০ সালে সংসদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম মুসলিম নারী সাংসদদের মধ্যে ছিলেন। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অভিবাসন নীতিতে কড়া অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি পরিচিত। স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন।
তবে নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি একমাত্র নন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যাঞ্জেলা রেনার ও এড মিলিব্যান্ডের নামও শোনা যাচ্ছে। তবুও অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় শাবানা কিছুটা এগিয়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, ব্রিটেনের রাজনীতিতে আগামী দিনে কোন পথে এগোয় লেবার পার্টি।


