রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই বড়সড় রদবদল দেখা গেল মন্ত্রিসভায়। সোমবার রাজভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩৫ জন নতুন সদস্য শপথ নেওয়ার পর রাজ্য মন্ত্রিসভার আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৪০।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। সূত্রের খবর, দিনের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। কোন মন্ত্রী কোন বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিন যাঁরা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার একাধিক বিধায়ক। মানিকতলার তাপস রায়, ফালাকাটার দীপক বর্মন, সিউড়ির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, কুমারগ্রামের মনোজ ওঁরাও, রাসবিহারীর স্বপন দাশগুপ্ত, শিলিগুড়ির শংকর ঘোষ এবং নোয়াপাড়ার অর্জুন সিংয়ের মতো পরিচিত রাজনৈতিক মুখদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজনকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯ জন বিধায়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই তালিকায় বিভিন্ন সামাজিক ও ভৌগোলিক এলাকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।এই তালিকায় রয়েছেন –
জুয়েল মুর্মু
ড. হরেকৃষ্ণ বেরা
আনন্দময় বর্মন
অশোক দিন্দা
নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি
বিশাল লামা
দিবাকর ঘরামি
শান্তনু প্রামাণিক
পূর্ণিমা চক্রবর্তী
মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র
গার্গী দাস ঘোষ
উমেশ রাই
কৌশিক চৌধুরী
ভাস্কর ভট্টাচার্য
কলিতা মাজি
বিরাজ বিশ্বাস
দীপঙ্কর জানা
সুমনা সরকার
অমিয় কিস্কু
উল্লেখ্য, গত ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসে। ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নেন। সেই সময় সীমিত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছিল। প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব তখন কয়েকজন মন্ত্রীর কাঁধেই ছিল।
বর্তমান সম্প্রসারণের ফলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের কাজ আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে শাসকদলের দাবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য ও সাংগঠনিক শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই নতুন দল প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


