উত্তরপত্র মূল্যায়নে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির পর এবার ডিজিটাল নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপ ঢাকতে বাধ্য হলো সিবিএসই। পড়ুয়াদের খাতা দেখার জন্য ব্যবহৃত ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ বা ওএসএম পোর্টালের মারাত্মক সুরক্ষা ত্রুটি অবশেষে মেনে নিল বোর্ড, যদিও এর আগে কেন্দ্র ও সিবিএসই এই পদ্ধতিকে ক্লিনচিট দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিবিএসই জানিয়েছে যে পোর্টালের দুর্বলতাগুলি নিয়ে জনমানসে তৈরি হওয়া উদ্বেগের ওপর তারা নজর রাখছে। আইআইটি-র সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি দল গত কয়েকদিন ধরে এই নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ করছে এবং চিহ্নিত হওয়া ত্রুটিগুলি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে বোর্ড দাবি করেছে।
বোর্ডের এই ডিজিটাল পরিকাঠামোর গোপন ফাঁসের পেছনে রয়েছেন ১৯ বছর বয়সি এক এথিক্যাল হ্যাকার নিসর্গ অধিকারী। তিনি দাবি করেন যে সিবিএসই-র সার্ভারে তিনি অনায়াসেই ঢুকে পড়েছিলেন এবং সেখানে যে কেউ কোনো পড়ুয়ার নম্বর দেখে নিতে বা তা বদলে দিতে পারত। এই মারাত্মক বিপদের কথা তিনি আগেই বোর্ডকে জানালেও প্রথমে কান দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে শেষমেশ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এই এথিক্যাল হ্যাকারদের ধন্যবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছে সিবিএসই।
এদিকে এই নম্বর বিভ্রাট ও তথ্য ফাঁসের জেরে বিপাকে পড়া দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির বেদান্ত নামের এক মেধাবী পড়ুয়া সিবিএসই-র কাছে খাতা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে তাঁকে অন্য কারোর পদার্থবিদ্যার খাতা ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ওই পড়ুয়াদের খোদ শাসক শিবিরের তরফ থেকে ‘দেশবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ তকমা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করে রাহুল গান্ধী তীব্র কটাক্ষের সুরে জানান যে মেধাবী ভারতীয় পড়ুয়ারা সিবিএসই ও মোদী সরকারকে কিছু সহজ প্রশ্ন করায় উত্তরের বদলে কেবল অপমান পেয়েছে। একইসঙ্গে কংগ্রেস দাবি করেছে যে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ২০ লক্ষ পড়ুয়ার উত্তরপত্রের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অরাজকতাকেই প্রমাণ করে।


