বাইরে ‘সব কুছ ঠিক হ্যায়’ বলে ঢাক পেটালেও আদতে ভেতরে ভেতরে এক মারাত্মক আর্থিক ও প্রশাসনিক দেউলিয়াত্বের মুখে পড়েছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের কৃষিক্ষেত্রে সারের জোগান তলানিতে ঠেকেছে, যার জেরে এবার ভারতের খাদ্য সুরক্ষাই বড়সড় প্রশ্নের মুখে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সারসচিব রজত কুমার মিশ্রের এক গোপন বৈঠকে দেশের এই কঙ্কালসার সার সঙ্কটের কথা ফাঁস হওয়ার পরেই ঘুম উড়েছে কেন্দ্রের। আর এই চরম ব্যর্থতা ঢাকতেই আজ, ১ জুন থেকে দেশজুড়ে ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ নামের এক নতুন প্রচারের নাটক শুরু করছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার রামসিয়া গ্রামে গিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করছেন।
গোপন বৈঠকের সূত্র মারফত জানা গেছে, সার সচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে মার্চ মাস থেকে সার ভর্তি ১৬টি জাহাজ হরমুজে আটকে রয়েছে। সৌদি আরব ও মরক্কো থেকেও ইউরিয়া, ডিএপি বা সালফার আসছে না। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া থেকেও সার আমদানির কোনো উপায় নেই। ফলে চারদিক থেকেই ভারতের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। একদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে মোদী সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, অন্যদিকে দেশের বাজারে সারের কৃত্রিম অভাব ও কালোবাজারি রুখতে চরম গাফিলতি—সব মিলিয়ে গরিব কৃষকদের এখন চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় সার না পেয়ে ফসল মার খাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নিজেদের এই ব্যর্থতা আড়াল করতে এখন নিরুপায় হয়ে কৃষকদের রাসায়নিক সারের বদলে গোবর বা খড় পচা প্রাকৃতিক সার ব্যবহারের জ্ঞান দিচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু হঠাত করে সারের এই ঘাটতি যে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা বলাই বাহুল্য। অথচ নিজেদের অপদার্থতা লুকিয়ে কৃষকদের দরদী সাজার লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্রচার চালাবে বিজেপি সরকার। ১৬ হাজার বিজ্ঞানী ও পঞ্চায়েত দফতরকে নামিয়ে স্রেফ প্রচারের আলো কাড়তেই ব্যস্ত মোদী সরকার, যখন দেশের অন্নদাতারা সারের জন্য হাহাকার করছেন।


