দেশের স্বাধীনতার আট দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য এখনও মুছে যায়নি। রাজ্যের আদিবাসী, দলিত ও সংখ্যালঘু সমাজের ছাত্র-যুবকদের মধ্যে সেই বঞ্চনার চিহ্ন আজও স্পষ্ট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগের অভাব, কর্মসংস্থানের সংকট ও ওবিসি সংরক্ষণ নীতি বাতিল—এই তিনটি বিষয় মিলে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আরও কোণঠাসা করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া (এসআইও), পশ্চিমবঙ্গ শাখা শিক্ষা, সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ন্যায্য দাবিতে রাজ্যজুড়ে এক ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আন্দোলনের মূল স্লোগান “ওবিসি নীতির পুনর্বহাল, সমন্বিত শিক্ষাঙ্গন ও কর্মসংস্থানের উদ্ভাবন।” বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব ঘোষণা করে, ৫ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই আন্দোলন চলবে। এই সময় বিভিন্ন জেলায় জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, শিক্ষা দপ্তরে দাবি পেশ, পথসভা, মানববন্ধন, দেওয়াল লিখন, পোস্টার প্রচার ও হ্যান্ডবিল বিতরণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এই আন্দোলনের চূড়ান্ত দিন অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর দুপুর ১টায় কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে বিধানসভা অভিযান হবে বলে জানানো হয়। এই আন্দোলনের মূল দাবি গুলির মধ্যে রয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণ নীতি অবিলম্বে পুনর্বহাল করা, মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঘোষিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনরায় চালু করা, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সরকারি অনুদান ও হোস্টেল নির্মাণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনরায় খোলা এবং রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে সংখ্যালঘু চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করা।
এছাড়া ডিগ্রি কলেজে যুগোপযোগী দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালুর দাবিও জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াকিল, সংগঠন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, শিক্ষাঙ্গন সম্পাদক আলি নওয়াজ মণ্ডল ও জনসংযোগ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মণ্ডল।


