ডোমকলের এক দৃষ্টিহীন ভিখারিকে এসআইআর শুনানির নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, এসআইআর প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের কাছে কতটা আতঙ্কের হয়ে উঠেছে। ডোমকল পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা আলম মণ্ডল জন্ম থেকেই পুরোপুরি দৃষ্টিহীন। বয়স ৪২ বছর। বাবা-মা বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন। দশ ভাই-বোনের মধ্যে অধিকাংশই নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আলম একা, অনাথ অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। পেটের দায়ে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিতে হয়েছে।
এমন অবস্থায় মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তাঁর হাতে এসআইআর শুনানির নোটিশ আসে। নোটিশে জানানো হয়, ভোটার তালিকায় বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর হওয়ায় তাঁকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। বৃহস্পতিবার দৃষ্টিহীন আলম ডোমকল বিডিও অফিসের হেয়ারিং সেন্টারে হাজির হন। তাঁর কাছে কোনও জন্ম সনদ বা শিক্ষাগত নথি ছিল না। শুধু আধার কার্ড ও রেশন কার্ড জমা দেন তিনি। আলম বলেন, “আমি এই দেশেই জন্মেছি। কোনও দিন স্কুলে যাইনি। এখন হঠাৎ করে কাগজ কোথা থেকে আনব? তার চেয়ে আমাকে জেলে ভরে দিলেই ভালো, অন্তত দু’বেলা খেতে পাব।” আলমের ভাই জয়নাল আবেদীন জানান, তাঁদের পরিবারে বহু পুরনো জমির দলিল থাকা সত্ত্বেও এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এপিডিআর। সংগঠনের ডোমকল শাখার সম্পাদক আব্দুল গনি বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া অপরিকল্পিত ও অসাংবিধানিক। গরিব ও প্রান্তিক মানুষদেরই বেশি লক্ষ্য করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


