উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলায় এক বুথ লেভেল অফিসারের আত্মহত্যার ঘটনায় প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার আতাড়িয়া এলাকায় নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন ৩০ বছর বয়সী উমেশ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত চাপই তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
মৃত উমেশ আতাড়িয়া শহরের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি দারিয়াপুর প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রশিক্ষক। পাশাপাশি তাঁকে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কাজের চাপ এবং সময়সীমা নিয়ে তিনি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় উমেশ ঘরে একাই ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তা কেটে খুলতে হয়। পরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আতাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এই ঘটনায় আপাতত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি।
উমেশের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের দেখা-না-দেখা কাজ, তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ধারিত সময়ের চাপ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা বা বিশ্রামের সুযোগ ছিল না।
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই উঠে আসছে বিভিন্ন মহলে। খবর অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত কাজের চাপের মধ্যে পড়ে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা ও রাজস্থানে অন্তত নয়টি আত্মহত্যা এবং দু’টি স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।
সীতাপুরের এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল এক কঠিন প্রশ্ন—প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নামে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর কতটা চাপ দেওয়া হচ্ছে, আর সেই চাপ সামলানোর মতো মানবিক ব্যবস্থাপনা আদৌ আছে কি না।


