পটনার ছাত্র আন্দোলনে এবার নজর কেড়েছে ছ’বছরের এক শিশু। নাম আদিত্য। মঙ্গলবার নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা বিক্ষোভে অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাকেও দেখা যায়। পরে তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পুলিশ সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, শিশুটিকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার জন্যই তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বিক্ষোভের জায়গায় গোলমালের আশঙ্কা থাকায় শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাই তাকে থানায় এনে রাখা হয়। পরে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের সতর্ক করে পুলিশ জানায়, এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছোট শিশুকে নিয়ে বাইরে থাকা ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে সন্তানকে নিয়ে আরও সাবধান হতে বলা হয়েছে।
তবে থানার বাইরে এসে আদিত্য যা বলেছে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে সে সরাসরি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে। তার কথায়, বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ছ’বছরের শিশুর মুখে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য শুনে সেখানে থাকা আন্দোলনকারীদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। তাঁকে ঘিরে ‘জেন আলফা’ স্লোগানও দিতে শোনা যায়।
আদিত্যর বাবা-মায়ের দাবি, চারপাশে কী ঘটছে তা জানার আগ্রহ থেকেই ছেলে আন্দোলনের জায়গায় গিয়েছিল। তবে এত অল্প বয়সে তার এমন মন্তব্য অনেককেই অবাক করেছে। মঙ্গলবার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে পরীক্ষার্থীদের মিছিলকে ঘিরে পটনায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় কয়েকজন পড়ুয়া এবং পুলিশকর্মী আহত হন।
এরপর আহত পড়ুয়াদের দেখতে হাসপাতালে যান বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। ঘটনাটির নিন্দা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। বুধবার সমাজমাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ কেন উঠছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন। তাঁর বক্তব্য, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে চলতে পারে না। সিওয়ানে একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, পড়ুয়াদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হচ্ছে।


