উৎসবের মরসুম শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তার আগেই চিনির দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তার উপর বাজারে নতুন করে দেখা দিয়েছে আরও এক সমস্যা। বেশি দাম দিয়েও ইচ্ছেমতো চিনি কেনা যাচ্ছে না। অনলাইন থেকে শুরু করে বড় ছোট দোকান—বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে কতটা চিনি কেনা যাবে, তার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের আগে দেশের বহু পরিবার বাড়িতে মিষ্টি ও নানা ধরনের খাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি কিনে রাখেন। ফলে এই সময়ে চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই।
জানা গিয়েছে, কয়েকটি দ্রুত পণ্য সরবরাহকারী অনলাইন সংস্থা চিনির প্যাকেট বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা চালু করেছে। দিল্লি-সহ একাধিক শহরে একজন ক্রেতা একবারে ৫০০ গ্রাম ওজনের দুটির বেশি চিনির প্যাকেট কিনতে পারছেন না। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রায় একই ধরনের নিয়ম দেখা যাচ্ছে।
শুধু অনলাইনেই নয়, সাধারণ দোকানেও পরিস্থিতি খুব একটা আলাদা নয়। দেশের দু’টি বড় খুচরো বিপণন সংস্থার একাধিক শাখায় একসঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি চিনি বিক্রি করা হচ্ছে না বলে খবর। কোথাও দুই কেজি, আবার কোথাও তিন কেজির বেশি কেনার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। উৎসবের ঠিক আগে এমন নিয়ন্ত্রণ সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা দেখা যায়নি বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
এর পিছনে অন্যতম কারণ চিনির দাম বৃদ্ধি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই মাসে খুচরো বাজারে চিনির দাম ১৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এখনও দামের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি থামেনি। ফলে সরবরাহ এবং বাজারদর নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চিনির বাজারে এই পরিস্থিতির জন্য দেশে বাড়তে থাকা ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করা হচ্ছে। পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে আখ থেকে চিনি উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এই কারণকে দায়ী করার বিষয়টি স্বীকার করেনি।
দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চিনি মজুতের উপর কড়া নজরদারি থাকবে। যেসব ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাসে ১০ মেট্রিক টন পর্যন্ত চিনি প্রয়োজন, তারাও ১৫ দিনের বেশি মজুত রাখতে পারবে না।
এর পাশাপাশি বিদেশ থেকে চিনি আনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। ব্রাজিল ও থাইল্যান্ড থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই আমদানিতে কোনও শুল্ক থাকবে না। সরকারের আশা, বিদেশ থেকে সরবরাহ বাড়লে বাজারে চাপ কিছুটা কমবে এবং উৎসবের আগে দামের উপরও নিয়ন্ত্রণ ফিরবে।


