কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে ওই রাস্তার নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি সরণি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত ইতিহাসকে উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মহম্মদ সেলিম এক বিবৃতিতে বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং ইতিহাসকে ভুলভাবে তুলে ধরার একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ। তাঁর দাবি, যাঁর নামে এতদিন রাস্তার নাম ছিল, সেই ডাঃ হাসান সোহরাওয়ার্দি ছিলেন দেশের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। কিন্তু তাঁকে অবিভক্ত বাংলার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।সম্প্রতি রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন এক ব্যক্তির নাম বহন করা হচ্ছিল যাঁর নাম দেশভাগ ও সহিংসতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। সেই কারণেই ইতিহাসের সংশোধন হিসেবে নতুন নামকরণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, ডাঃ হাসান সোহরাওয়ার্দির অবদান সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় রেলে চিকিৎসা পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স ও নার্সিং ব্যবস্থার বিকাশে তাঁর ভূমিকার কথাও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।ইতিহাসবিদ এবং শিক্ষামহলের একাংশের মতে, ডাঃ হাসান সোহরাওয়ার্দির কাজ ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই ব্রিটিশ আমলে তাঁর নামে ওই রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল। ১৯৩৩ সালে কলকাতা কর্পোরেশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং পরে তা সরকারি গেজেটেও প্রকাশিত হয়। ফলে বর্তমান সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।মহম্মদ সেলিম দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার ও কলকাতা কর্পোরেশনকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে রাস্তার নামকরণের প্রকৃত ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ইতিহাসকে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, ইতিহাস গবেষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কোনও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবন ও অবদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই করা জরুরি।
শিক্ষাবিদ সোহরাওয়ার্দির নাম মুছে কলকাতার রাস্তার নয়া নামকরণ! ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ সেলিমের
Popular Categories

