Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

দেশের মোট সম্পদের ৪০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী—তীব্র বৈষম্যের ইঙ্গিত বলছে সমীক্ষা

ভারতে ধনী-গরিবের ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা। বুধবার প্রকাশিত ‘ওয়েলথ ট্র্যাকার ইন্ডিয়া ২০২৬’ নামে এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের পাঁচটি সবচেয়ে ধনী পরিবারের সম্পদ প্রায় ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। এই সমীক্ষা প্রকাশ করেছে অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর ফিনান্সিয়াল একাউন্টেবিলিটি এবং ট্যাক্স দা টপ ক্যাম্পেইন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে যাদের সম্পদের পরিমাণ ১,০০০ কোটির বেশি, এমন ১,৬৮৮ জন অতিধনী ব্যক্তির ওপর ধাপে ধাপে সম্পদ কর বসানো হলে ১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। এই বিপুল অর্থ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে খরচ করা যেতে পারে বলে মত গবেষকদের।

সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মোট সম্পদের মধ্যে নিচের ৫০ শতাংশ মানুষের ভাগ ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬.৪ শতাংশেই আটকে রয়েছে। অন্যদিকে, শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি সম্পদ। গবেষণায় আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ঔপনিবেশিক আমলের মতো অসমতার দিকে এগোচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের অতিধনীদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা ভারতের মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেক। এই প্রেক্ষিতে গবেষকরা প্রস্তাব দিয়েছেন, ২ থেকে ৬ শতাংশ হারে সম্পদ কর এবং উত্তরাধিকার কর চালু করা হলে বছরে প্রায় ১০.৬ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

এই অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ১ শতাংশ করে বাড়তি খরচ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বয়স্কদের জন্য মাসে ১২,০০০ টাকা পেনশন দেওয়ার মতো প্রকল্পও চালু করা সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সমীক্ষায় শিল্পপতিদের সম্পদ বৃদ্ধির দিকেও আলোকপাত করা হয়েছে। মুকেশ আম্বানি-র সম্পদ এই সময়ে ১৫৩ শতাংশ বেড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর ওপর মাত্র ২ শতাংশ কর বসালেই দেশের সব দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের তিন বছর ধরে বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়া যেত।

অন্যদিকে গৌতম আদানি-র সম্পদ একই সময়ে ৬২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর ওপর ২ শতাংশ কর আরোপ করলে গোটা দেশের জন্য দু’বছরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ জোগানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের এই দাবি যে জনকল্যাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তা এই তথ্যের সঙ্গে মেলে না। বরং কর্পোরেট কর কমানো হলেও সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেন্টার ফর ফিনান্সিয়াল একাউন্টেবিলিটি ক্যাম্পেইন ডিরেক্টর অনির্বাণ ভট্টাচার্য বলেন, “আজ দেশে যেন দুটি আলাদা বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—একদিকে অল্প কয়েকজন ধনীর বিপুল সম্পদ বৃদ্ধি, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঋণ ও অনিশ্চিত আয়ের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পদ কর একমাত্র সমাধান না হলেও এটি বৈষম্য কমাতে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories