Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

বাংলাদেশী সন্দেহে ওপার বাংলায় এখনো আটকে স্বামী, সদ্য মা হওয়া সোনালীর আর্তনাদ শুনছেনা সরকার

বীরভূমের মুরারইয়ের পাইকর গ্রামের বাসিন্দা সোনালি বিবির চোখে জল আজও থামেনি। কোলে তিন মাসের শিশুপুত্র, পাশে আরও দুই সন্তান—এই অবস্থায় স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আর্তি জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন, অথচ তিনি নিজে অনেক কষ্টে দেশে ফিরতে পেরেছেন।

সোনালি জানালেন, কাজের খোঁজে কয়েক বছর আগে তিনি ও তাঁর স্বামী দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁদের বড় ছেলে এবং একই গ্রামের আরও একটি পরিবার। সেখানে দিনমজুরির কাজ করেই কোনওরকমে সংসার চলত। কিন্তু হঠাৎ এক রাতে সবকিছু বদলে যায়। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে সন্দেহ তৈরি হয়, এবং পুলিশ তাঁদের আটক করে। সমস্ত পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের অসম সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সোনালির কথায়, সেই সময় তাঁরা একেবারে অসহায় অবস্থায় পড়েন। ঠিকমতো খাবার বা আশ্রয় কিছুই ছিল না। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় কয়েকদিনের জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই পান। কিন্তু সেখানেও বিপদ কাটেনি। বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে জেলে পাঠানো হয়।

এই সময় সোনালি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর পরিবার ভারতে আইনি লড়াই শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। তবে তাঁর স্বামী এবং গ্রামের আরও কয়েকজন এখনও ফেরেননি। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের।

বর্তমানে সোনালি তাঁর বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছোট একটি ঘরে বহু মানুষ একসঙ্গে থাকছেন। সংসারে রোজগারের একমাত্র ভরসা তাঁর দাদা, যিনি টোটো চালান। সীমিত আয়ে এত বড় পরিবারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত। প্রয়োজনীয় নথি থাকা সত্ত্বেও রেশন, ভাতা বা আবাসন—কোনোটাই ঠিকমতো পাননি।

গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশেরও একই অভিযোগ—বারবার আবেদন জানানো হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ভুল হলে তার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

এদিকে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যাঁরা এখনও দেশে ফিরতে পারেননি, তাঁদের নিরাপদে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

অগ্নিনিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার কড়া নোটিস দমকলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

Related Articles

Popular Categories