মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বুধবার গাজা ও লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন সাংবাদিক। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ সংঘাতের মধ্যেও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গাজা শহরের পশ্চিমাংশে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদক মহম্মদ উইশাহ। স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর এবং তাঁর কর্মস্থল সূত্রে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সহকর্মীদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে রিপোর্টিং করছিলেন, সেই সময়ই হামলার শিকার হন।
অন্যদিকে, ইজরায়েলি সেনার পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। সেনার আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, নিহত ওই সাংবাদিকের সঙ্গে হামাসের যোগ ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরনো একটি পোস্টের ভিত্তিতে উইশাহকে হামাসের সামরিক শাখার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে, লেবাননেও একই দিনে হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই সাংবাদিক। আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সংবাদ উপস্থাপক ঘাদা দায়েখ এবং সাংবাদিক সুজান খলিল। ঘাদা দায়েখ একটি স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, সুজান খলিল কাজ করতেন হিজবুল্লা-ঘনিষ্ঠ টেলিভিশন ও রেডিও সংস্থায়।
জানা গিয়েছে, লেবাননে ওই দিন ইজরায়েলের একাধিক হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। মূলত হিজবুল্লাকে লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযানে ১৮০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতের সংখ্যাও অনেক। এই ঘটনাগুলি নতুন করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের প্রাণহানির ঘটনা বারবার ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার সংঘাত থামানোর আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ও সঠিক খবর পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষও প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, ততই মানবিক সংকট গভীরতর হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


