গাজায় চলমান সংঘাত এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থানকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। শনিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা শুধু নৈতিক প্রশ্নই নয়, জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিতেও তা ব্যাখ্যাতীত।
সোনিয়া গান্ধীর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় ভারত ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, সাম্প্রতিক সময়ে সেই কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, প্যালেস্তাইন, ইরান-সহ একাধিক ঐতিহ্যগত অংশীদারের সঙ্গে ভারতের দূরত্ব বেড়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মহলে গাজা নিয়ে যে জনমত গড়ে উঠেছে, ভারত তার সঙ্গে নিজেকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকা দুর্বল হয়েছে এবং মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলি বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের উপর হামলার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফর কূটনৈতিকভাবে “বিস্ময়কর” ছিল।
নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শ এবং জাতীয় স্বার্থ—উভয়ই গাজায় সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের উপর হওয়া হামলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার পক্ষে। তাঁর অভিযোগ, মোদি সরকার এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও দৃঢ় অবস্থান নেয়নি।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস. মুরলীধরের নেতৃত্বাধীন একটি কমিশনের প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন। সেই প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, গাজায় নিহতদের একটি বড় অংশই শিশু এবং সেখানে শিক্ষা পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজায় চলমান সংঘাত, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ভারত সরকারও একাধিকবার শান্তি, সংলাপ এবং মানবিক সহায়তার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে সোনিয়া গান্ধীর এই মন্তব্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


