গুজরাটের জুনাগড় জেলার একটি গ্রামের মন্দিরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই উপলক্ষে গ্রামের বিভিন্ন মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, দলিত সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের জন্য আলাদা শর্ত আরোপ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১০ জন দলিত ব্যক্তিকে অনুষ্ঠানে ডাকা হলেও তাঁদের জন্য এমন কিছু নিয়ম চাপানো হয়, যা অপমানজনক বলে মনে করেছেন তাঁরা। বলা হয়, মূল ভোজপর্ব শেষ হওয়ার পরে তাঁদের উপস্থিত থাকতে হবে। পাশাপাশি, অন্যদের থেকে আলাদা জায়গায় বসে খেতে হবে এবং মন্দিরের ভিতরে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হবে না। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের নিজেদের থালা-বাটি ও পানীয় জল বাড়ি থেকে নিয়ে আসার কথাও জানানো হয় বলে অভিযোগ।এই ধরনের শর্ত শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, এটি শুধু বৈষম্য নয়, বরং তাঁদের সম্মানহানি করারই একটি প্রচেষ্টা। এমনকি তাঁদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্যও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, এমন অপমানজনক শর্ত মেনে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। ফলে নির্ধারিত ভোজ অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়।যদিও বিতর্কের মাঝেই মন্দিরের মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্ধারিত দিনেই সম্পন্ন হয়। তবে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এক যুবক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে আয়োজক কমিটির কয়েকজন সদস্য তাঁদের এলাকায় এসে এই শর্তগুলির কথা জানান, যার পরেই প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও জনজাতির ওপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের পাশাপাশি অন্যান্য ধারাতেও মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠছে সমাজের একাংশে এখনও কেন এমন মানসিকতা রয়ে গেছে। আইন থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
Popular Categories


