গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক নীতিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাকে সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ঋণ মকুব এবং কর ছাড়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি জানিয়েছেন, যেসব বড় সংস্থার ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ঋণ ছিল, তাদের বিপুল অঙ্কের ঋণ গত পাঁচ বছরে মকুব করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী চার বছরে এই মকুবের পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে মোট প্রায় ৩ লক্ষ ১৮ হাজার কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ঋণ মকুব হলেও তা আদায়ের প্রক্রিয়া চালু থাকে, বাস্তবে সেই আদায় তেমন সফল হয়নি।
সরকারি তথ্য বলছে, এই সময়ের মধ্যে মকুব হওয়া ঋণের বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ কোটির কিছু বেশি। অর্থাৎ মোট টাকার একটি বড় অংশ আর ফেরত আসেনি। ফলে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার মতো অর্থ কার্যত আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির লাভ বেড়েছে।
এদিকে শুধু ঋণ মকুবই নয়, বড় সংস্থাগুলিকে করের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে মোট ৭ লক্ষ ৭৪ হাজার কোটি টাকার কর ছাড় দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। এই তালিকায় দেশের শীর্ষ সংস্থাগুলিও রয়েছে। তবে এই সুবিধার ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কোনও বড় পরিবর্তন হয়নি বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী নিজেই।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে করের বোঝা ক্রমশ বেড়েছে। জিএসটি ও বিভিন্ন সারচার্জের মাধ্যমে গত চার বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর করের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। কর্পোরেটদের জন্য ঋণ মকুব ও কর ছাড়ের পরিমাণ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য তেমন স্বস্তি আসেনি। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক নীতির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির, যা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।


