সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজ, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের শুনানি করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই আবেদনগুলিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিমদের উদ্দেশে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
এই মামলার শুনানি হবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। আবেদনকারীরা দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা হোক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হোক। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর ভরসা করা যাচ্ছে না বলে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ৭ ফেব্রুয়ারি অসম বিজেপির অফিসিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করা একটি ১৭ সেকেন্ডের এআই-তৈরি ভিডিওকে ঘিরে। পরে সেটি মুছে ফেলা হয় বলে জানা যায়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী রাইফেল তাক করে গুলি করছেন টুপি ও দাড়িওয়ালা দুই ব্যক্তির ছবিকে উদ্দেশ্য করে যা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভিডিওতে ‘নো মার্সি’ এবং ‘ফরেনার-ফ্রি অসম’-এর মতো শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় পৃথকভাবে আবেদন জানিয়েছে সিপিএম। পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হিরেন গোহাঁই, প্রাক্তন পুলিশকর্তা হরেকৃষ্ণ ডেকা, সাংবাদিক পরেশ চন্দ্র মালাকার ও আইনজীবী শান্তনু বৰঠাকুর-সহ চারজন অসমবাসীও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার ‘মিয়া’ ও ‘বাংলাদেশি’ শব্দ ব্যবহার করে অপমান করেছেন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে।
এছাড়া ১২ জন নাগরিক এবং জামিয়াত উলামা-ই-হিন্দ এর পক্ষ থেকেও বিভাজনমূলক মন্তব্যে করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে আসাউদ্দিন ওয়াসি হায়দরাবাদে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আশঙ্কা বাড়ছে। আবেদনকারীরা সংবিধানের অধিকার রক্ষার কথা তুলে ধরে আদালতের হস্তক্ষেপ চাইছেন বলে জানা গিয়েছে।


