সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি সংক্রান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশ ছিল, এই তালিকা পঞ্চায়েত-ব্লক অফিস এবং পুরসভার ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই জানতে পারেন তাঁদের নাম রয়েছে কি না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। শনিবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন একটি তালিকা প্রকাশ করলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। এই তালিকা শুধু ইআরও এবং এআরওদের কাছে পাঠানো হয়। ফলে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে, তাঁরা নিজেরাই জানেন না তাঁদের নাম তালিকায় আছে কি না। এমনকি যাঁদের শুনানির নোটিস দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের রিসিভ কপিও ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, যাঁদের নামে অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের তালিকা স্থানীয় অফিসে টাঙাতে হবে এবং শুনানির জন্য ডাকা হলে তার লিখিত প্রমাণ দিতে হবে। শনিবার রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় বিডিও অফিসে তালিকা টাঙানো হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা খুলে ফেলা হয়। বলা হয়, দিল্লি থেকে নির্দেশ আসায় তালিকা সরানো হয়েছে।
রবিবার জানা যায়, প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় দু’টি ভাগ রয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি এবং আনম্যাপড। কিন্তু এই তালিকাও সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা হয়নি, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে।প্রথমে কমিশন জানিয়েছিল, প্রায় ১ কোটি ২২ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, হঠাৎ করে প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম যোগ হয়েছে। কমিশনের দাবি, পুনর্বাচাইয়ের সময় কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ায় এই নামগুলি যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাব এবং আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি বলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


