আরাবল্লী পর্বতকে ঘিরে চলা বিতর্কে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুত্ব দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিজে থেকেই একটি মামলা গ্রহণ করেছে। আরাবল্লী পাহাড়ের সংজ্ঞা পরিবর্তন নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ বলে জানা যায়।২৯ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ জি মসিহ। পরিবেশবিদদের মতে, আদালতের এই পদক্ষেপ আরাবল্লী রক্ষার লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রকের এক প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার এলাকাকেই পাহাড় হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আরাবল্লী অঞ্চলের খুব সামান্য অংশই এই উচ্চতার মধ্যে পড়ে। ফলে নতুন সংজ্ঞা কার্যকর হলে পাহাড়ি এলাকার বিশাল অংশ আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়ে যাবে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এতে জমি দখল, অবৈধ খনন এবং নির্মাণ কাজ আরও বাড়বে।
ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, রাজস্থান সরকারের তরফে একাধিক খনির ইজারা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় পাহাড় কেটে খনন কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিবেশ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের সুযোগ নিয়েই খনি ও জমি কারবারিরা আরাবল্লী এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব শুধু রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আরাবল্লী শুধুমাত্র একটি পাহাড়শ্রেণি নয়। এটি মরুভূমির অগ্রগতি রোধ করে এবং উত্তর ভারতের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই প্রাকৃতিক বাধা দুর্বল হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ এবং জলসংকট আরও তীব্র আকার নিতে পারে।
বিরোধী দল ও পরিবেশ সংগঠনগুলির অভিযোগ, পাহাড়ের সংজ্ঞা বদলের আড়ালে প্রকৃতপক্ষে আরাবল্লী ধ্বংসের পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব বৃদ্ধির যুক্তি দেখালেও পরিবেশের ক্ষতি উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকেই তাকিয়ে দেশ। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


