অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সাংবিধানিক। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার মানেই কেউ বিদেশি বা অনাগরিক নন। নাগরিকত্ব নির্ধারণ বা কেড়ে নেওয়ার কোনও অধিকার কমিশনের নেই। বিহারের এসআইআর মামলায় এক ঐতিহাসিক রায়ে এই কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, নাগরিকত্ব বিচারের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষেরই রয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তালিকা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। এরপর লোকসভা, বিধানসভা বা পঞ্চায়েত— যে কোনও ভোট আসার আগেই ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন মেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এই ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে হবে। বাদ পড়া ব্যক্তিরা উপযুক্ত নথিপত্র জমা দিয়ে পুনরায় তালিকায় নাম তোলার আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
বিহারের মামলা হলেও এই রায়ের প্রভাব পড়তে চলেছে গোটা দেশেই। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ গেছে বা যারা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তারা কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক ও অনৈতিক’ বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর দাবি, তাড়াহুড়ো করে লক্ষাধিক নাম বাদ দিয়ে ভোটের আগে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।
একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির গলায়। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পর দেখা যাচ্ছে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের নাম আবার তালিকায় জুড়ে যাচ্ছে। ভোটের আগে এই নামগুলো থাকলে নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করল, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য সরকারকে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।


