দিল্লিতে এক দলিত ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া স্বতন্ত্র ভারদ্বাজকে তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দিল্লির একটি আদালত তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। গ্রেপ্তারের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই তিনি এই জামিন পেলেন।ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই। ওই দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির একটি বিক্ষোভ চলছিল। অভিযোগ, সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক দলিত ব্যক্তির সঙ্গে স্বতন্ত্রের বচসা হয়। পরে তাঁকে মারধর করা হয় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। আহত ব্যক্তির মাথায় প্রায় ৬০টি সেলাই দিতে হয়েছিল বলে জানা যায়।ঘটনার পর স্বতন্ত্রের একটি সাক্ষাৎকার ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি ওই হামলার কথা প্রকাশ্যে বলেন এবং দাবি করেন, পুলিশের কাছ থেকে লাঠি নিয়েই তিনি ওই ব্যক্তিকে আঘাত করেছিলেন। পাশাপাশি বিজেপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের ফোনের পর তাঁকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছিল। তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিবাদ শুরু করে। দলিত সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদও বিষয়টি নিয়ে সরব হন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী স্বতন্ত্রের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।এরপর ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি পুলিশ স্বতন্ত্রকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৫(২) এবং ১২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছিল। এই ধারাগুলি মূলত মারধর ও আঘাতের মতো অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পরে প্রকাশ্যে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ ওঠায় তাঁর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সুরক্ষা আইন এবং পকসো আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়।তবে আদালতে জামিনের শুনানির সময় তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের মধ্যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় আদালত তাঁকে আপাতত তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। মামলাটি এখন তদন্তাধীন। স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
Popular Categories


