তেলঙ্গানার সিদ্দিপেট সরকারি মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত এক তরুণী দলিত ইন্টার্ন চিকিৎসকের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, জাতের কারণে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতারণা ও অবহেলার শিকার হওয়ার পরই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন ওই তরুণী।
মৃত চিকিৎসকের নাম বি. লাভণ্য। বয়স ২৩ বছর। যোগুলাম্বা গদওয়াল জেলার বাসিন্দা লাভণ্য এমবিবিএস পাশ করে সিদ্দিপেট মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্নশিপ করছিলেন। গত ৫ জানুয়ারি হস্টেলের নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে মামলা দায়ের করেছে এবং একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের প্রশ্ন—বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জাত ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সমাজকর্মীদের মতে, এই মৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত জাত ব্যবস্থারই নির্মম প্রতিফলন।
হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আম্বেদকর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এএসএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দলিতদের ক্ষেত্রে ভালোবাসা বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কখনওই নিরাপদ বা স্বাভাবিক হতে দেওয়া হয় না। জাতের গণ্ডি ভাঙলেই সম্পর্ককে শাস্তি দেওয়া হয়—কখনও ‘সম্মান’-এর নামে হিংসার মাধ্যমে, কখনও আবার সরে দাঁড়িয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
সংগঠনের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনায় দোষ সবসময়ই দলিতদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়, অথচ যে সামাজিক কাঠামো এই বৈষম্য তৈরি করে, তা অক্ষতই থেকে যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লাভণ্যর মৃত্যু সমাজের এক নিষ্ঠুর সত্য সামনে আনে—দলিত নারীদের জীবন, স্বপ্ন ও সম্মান এখনও শর্তসাপেক্ষ। তাঁরা একদিকে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যেও দ্বিগুণ বঞ্চনার মুখে পড়েন।
এএসএ অভিযোগ করেছে, বহু প্রতিষ্ঠান আজও ‘জাতের কোনও ভূমিকা নেই’—এই ভ্রান্ত ধারণাকে আশ্রয় দিয়ে বাস্তব বৈষম্যকে আড়াল করে। এর ফলেই অপরাধীরা ধরে নেয়, তাদের কাজের কোনও পরিণতি হবে না।
সংগঠনের বক্তব্য, “লাভণ্যর মৃত্যু শুধু সহানুভূতির দাবি রাখে না। এটা সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের ভিতরে থাকা জাত ক্ষমতার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার দাবি তোলে।”
লাভণ্যকে এক স্বপ্নবাজ, পরিশ্রমী তরুণী হিসেবে স্মরণ করে এএসএ জানিয়েছে, তাঁর মর্যাদা কোনওভাবেই অস্বীকারযোগ্য নয়। সংগঠনটি লাভণ্যর পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি দলিত নারীদের বিরুদ্ধে চলা জাতিগত হিংসার অবসান ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।


