‘থিরুপারকুন্ড্রম পাহাড়ের একটি মন্দিরকে দরগায় রূপান্তরিত করা হয়েছে’, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি তামিলনাড়ু সরকারের। সাম্প্রতিক সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়। যেখানে দাবি করা হয়, পাহাড়ের ওপর একটি হিন্দু মন্দিরকে দরগায় বদলে দেওয়া হয়েছে ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তামিলনাড়ুর সরকারি ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট বিষয়টি যাচাই করে জানায়, দাবি সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভুল প্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
সরকারি যাচাইয়ে উঠে আসে, ভিডিওতে যেটিকে মন্দির বলা দাবি করা হচ্ছে, সেটি আসলে সিকান্ধার দরগা, যা বহু বছর আগে দ্রাবিড় স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত একটি ইসলামিক ধর্মীয় স্থাপনা। তামিলনাড়ু জাদুঘরের পরিচালকের লেখা ‘Islamic Architecture in Tamil Nadu’ বইতেও উল্লেখ আছে, রাজ্যের বহু পুরোনো ইসলামিক স্থাপনা স্থানীয় দ্রাবিড় নকশা নির্মিত হয়েছিল, স্তম্ভ, বিম ও কার্নিশ ব্যবহার করে। এতে স্থাপত্যে মিল থাকলেও তা কোনও মন্দির রূপান্তরের প্রমাণ নয়; বরং সে সময়কার স্থানীয় কারিগরদের কাজের ধারা।টিএন ফ্যাক্ট চেকার এক্স-এ (টুইটার) জানান, মধ্যযুগে মাদুরাইয়ের সুলতানরা উত্তর ভারত থেকে এলেও স্থানীয় রীতি ও স্থাপত্য গ্রহণ করেছিলেন। বিখ্যাত ভ্রমণকারী ইবনে বতুতার লেখাতেও মন্দির ধ্বংস বা মূর্তি ভাঙার কোনও ঘটনার উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, সুলতান আলাউদ্দিনকে মাদুরাইয়ের গোরিপালায়ম এলাকায় সমাহিত করা হয়েছিল, যেখানে পরে তাঁর স্মৃতিতে একটি সমাধিসৌধ তৈরি হয়। এই সমাধি দেখতে পাণ্ড্য যুগের স্থাপত্যের মতো হলেও এর গম্বুজ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ইসলামিক ধাঁচ বহন করে।


