পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের ঝগড়া এবার দিল্লির সংসদ ভবনে পৌঁছে গেল। দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরের দিনই বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজের দলেরই আরেক প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামলেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, লোকসভার ভেতরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে খুব খারাপ ভাষায় অপমান করেছেন। সেই সঙ্গে লোকসভায় নারীদের প্রতি কল্যাণের মানসিকতা খুবই কুৎসিত বলেও তিনি স্পিকারকে জানিয়েছেন।
এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই, বুধবার তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি লিখে তিনি তৃণমূলের মহিলা শাখার জাতীয় সভাপতির পদসহ সব দায়িত্ব ছেড়ে দেন। চিঠিতে তিনি রেশন কেলেঙ্কারি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং দলে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অতিরিক্ত খবরদারির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, দলের বর্তমান অবস্থা দেখে তাঁর বিবেক আর সায় দিচ্ছে না। এছাড়া, আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে সেখানে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে খুব আঘাত করেছে। তবে পদ ছাড়লেও তিনি এখনই দল ছাড়ছেন না, সাধারণ কর্মী হিসেবেই থাকবেন। এর আগে গত রবিবার তিনি বারাসাত জেলা সভাপতির পদও ছেড়েছিলেন।
দলের শীর্ষ নেতাদের বারণ ও নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি সরকারি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তারপর থেকেই তাঁর দলবদলের গুঞ্জন আরও জোরদার হয়। একদিকে যখন রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার তৃণমূল আমলের নানা বেআইনি কাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে, ঠিক তখনই তৃণমূলের সাংসদদের এই ভেতরের মারামারি ও কাদা ছোড়াছুড়ি দলকে একেবারে কোণঠাসা করে দিয়েছে। এবার দিল্লির দরবারে দলেরই সহকর্মীর বিরুদ্ধে এমন নালিশ করার ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্য একটা মস্ত বড় ধাক্কা।


