জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে একটি রাজনৈতিক সভাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা শেষ হওয়ার পরই এই ঘটনাকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের সংগঠক এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতা বাবন পাল দল ছাড়ার ঘোষণা করায় এলাকায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই সভায় মঞ্চে ওঠার জন্য যে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, তাতে নিজের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাবন পাল। তাঁর দাবি, বহুদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তালিকায় অনেক পিছনে রাখা হয়, যা তিনি অসম্মানজনক বলে মনে করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর অভিযোগ—সভায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ অনুমতিপত্রও তিনি পাননি। এই ঘটনাগুলিই তাঁর ক্ষোভের মূল কারণ বলে জানা গিয়েছে।
সভাস্থল থেকে ফিরে তিনি নিজের বাড়িতে একটি বৈঠক করেন এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই সাংবাদিকদের সামনে এসে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করার পর এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, যোগ্য সম্মান না পেলে সংগঠনে থাকা অর্থহীন। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার পর তাঁর বাড়িতে থাকা দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলতে দেখা যায়। অনুগামীদের সেগুলি নিয়ে যেতে বলেন তিনি। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাঁর সিদ্ধান্ত হঠাৎ আবেগের বশে নেওয়া নয়, বরং ভেবেচিন্তেই এই পদক্ষেপ করেছেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। ময়নাগুড়ি ব্লক সভাপতি শিব শঙ্কর দত্ত জানান, সভার মঞ্চে কারা থাকবেন তা একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ঠিক করা হয়। দলের প্রার্থী, জেলার নেতৃত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে কেউ অসন্তুষ্ট হলে সংগঠনের কিছু করার নেই বলেই তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, এই কারণে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তিনি যথাযথ নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়নাগুড়িতে তৃণমূলের অন্দরমহলে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের বিরোধ দলের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা শুরু হয়েছে।


