পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে চরম নাটকীয়তা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলার বিজেপি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে বসেছে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের আসর। যেখানে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের পাশাপাশি সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্রেফ দলবদল নয়, জোড়াফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত করতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট শর্ত আদায় করে নিচ্ছেন তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা।
দলবদলের নেপথ্যে থাকা ৩টি মূল শর্ত:
- ভবিষ্যতের টিকিট গ্যারান্টি: দলবদলু সাংসদদের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো রাজনৈতিক নিশ্চয়তা। আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁদের বর্তমান কেন্দ্র থেকেই বিজেপির টিকিটে প্রার্থী পদ এখনই নিশ্চিত করতে হবে।
- দিল্লির হাই-লেভেল নিরাপত্তা: তৃণমূল ছাড়ার পর বাংলায় পা রাখলেই শাসকদলের রাজনৈতিক রোষ এবং প্রশাসনিক কোপের মুখে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রত্যেকেই কেন্দ্রের উচ্চমানের ‘ভিআইপি’ নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
- দিল্লির কুর্সি ও ক্ষমতার লোভ: সূত্রের খবর, কেবল টিকিট বা নিরাপত্তাতেই সবাই সন্তুষ্ট নন। এই বিদ্রোহী শিবিরের এক প্রভাবশালী নেত্রী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও বড় কমিশন বা কর্পোরেশনের (নিগম) চেয়ারম্যান পদের লোভনীয় কুর্সি দাবি করে রেখেছেন।
এই মুহূর্তে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে উপস্থিত ১১ সাংসদ:
- কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসত)
- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া)
- শতাব্দী রায় (বীরভূম)
- অসিত মাল (বোলপুর)
- বাপি হালদার (মথুরাপুর)
- জুন মালিয়া (মেদিনীপুর)
- জগদীশ বাসুনিয়া (কোচবিহার)
- কালীপদ সরেন (ঝাড়গ্রাম)
- অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া)
- পার্থ ভৌমিক (ব্যারাকপুর)
- শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব)
পর্দার আড়ালে সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন যাঁরা:
সরাসরি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও, আগেভাগেই দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন আলোচনা ও চুক্তি চূড়ান্ত করে রেখেছেন এই ৪ তারকা সাংসদ:
- রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি)
- ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর)
- দেব অধিকারী (ঘাটাল)
- শত্রুঘ্ন সিনহা (আসানসোল)

