রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। দিল্লিতে দলের একাধিক সাংসদের তৎপরতা এবং ধারাবাহিক বৈঠককে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, দলের কিছু অসন্তুষ্ট সাংসদ সম্প্রতি রাজধানীতে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সেই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার থেকে দিল্লিতে রাজনৈতিক ব্যস্ততা অনেকটাই বেড়েছে। একই সময়ে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিরোধী জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বৈঠককে কেন্দ্র করে তিনি রাজধানীতে গিয়েছেন। তবে এর মধ্যেই দলের কয়েকজন সাংসদের পৃথক বৈঠক নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়েছেন। কেউ সরকারি আবাসনে, আবার কেউ হোটেলে অবস্থান করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করেছেন বলে খবর। কয়েক দফায় ফোনে আলোচনা এবং সরাসরি বৈঠকের কথাও শোনা যাচ্ছে।
এই বৈঠকগুলিতে দলের কয়েকজন পরিচিত সাংসদের উপস্থিতির খবর সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান এবং জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার নাম রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে। যদিও এই বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি।
এদিকে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই দিল্লিতে সাংসদদের একাধিক বৈঠক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। অনেকের মতে, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নিয়ে কিছু সাংসদ নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছেন।
অন্যদিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কিছু মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দলের জাতীয় পর্যায়ের এক নেতা সম্প্রতি সংগঠনকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বৃহত্তর সমাজের বিভিন্ন অংশকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি এটাও বলেন যে, নতুন কেউ দলে এলে তাকে দলের আদর্শ ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে।
তবে তৃণমূলের সাংসদদের সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তৃণমূল কিংবা বিজেপি— কোনও পক্ষই এই বিষয়ে প্রকাশ্যে স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা যতই বাড়ুক, বাস্তবে কী ঘটতে চলেছে তা জানতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে। দিল্লির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা অবশ্য আগামী দিনের সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


