তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া)-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা এবার কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলত্যাগী ২০ জন সাংসদই।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রথমে বিধানসভায় পরিষদীয় দলে ভাঙনের পর লোকসভাতেও দলের একাংশ সাংসদ বিদ্রোহের পথে হাঁটেন। পরে তাঁরা দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূল ত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই পরে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক হিসেবে পরিচিত এই নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও মহুয়া মৈত্র তৃণমূলেই থেকে যান এবং প্রকাশ্যে দলত্যাগীদের কড়া সমালোচনা করতে শুরু করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় মহুয়ার একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সাংসদরা আর্থিক লোভে দলত্যাগ করেছেন। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙন প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “মাত্র ১৫ কোটি? এত সস্তায় কেন যাচ্ছেন? আমার বিশ্বাস, আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন। বাকি ৩৬ মাসের জন্য এক কোটি করে নিচ্ছেন।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হন বিদ্রোহী সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। সেই কারণেই মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেত্রী তথা বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “আমরা মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
সূত্রের খবর, মহুয়ার মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, বাপি হালদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, শর্মিলা সরকার, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, কালীপদ সোরেন, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, পার্থ ভৌমিক-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সেটিকে ঘিরে ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
এখন দেখার, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সত্যিই আইনি পথে হাঁটে কি না বিদ্রোহী সাংসদদের শিবির। সেই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


