আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে যখন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যোগাসন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, তখন বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমারের যোগাভ্যাস ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যোগাসন করতে গিয়ে তাঁর একাধিক অস্বস্তিকর মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে নেটিজেনদের কটাক্ষ ও হাস্যরস।
রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পাটনার পাটলিপুত্র স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁদের সঙ্গেই যোগাসনে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার।
তবে যোগাভ্যাসের সময় বারবার তাল কাটতে দেখা যায় তাঁকে। কখনও নির্দেশ অনুযায়ী হাত-পা নাড়াতে ব্যর্থ হন, কখনও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। একটি পর্যায়ে ডান হাত তুলতে বলা হলে বাঁ হাত তুলতে দেখা যায় তাঁকে। আবার কিছু আসনের সময় বিভ্রান্ত হয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। এমনকি একবার ভারসাম্য হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দিকে হেলে পড়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
এই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা মন্তব্য। এক নেটিজেন লেখেন, “ওনাকে আগে গ্লুকোজ খাওয়ানো হোক।” অন্য একজনের মন্তব্য, “উনি যোগ করে যোগাসনকে ধন্য করছেন।” কেউ আবার মজার ছলে লেখেন, “উনি হলেন পুষ্পা, ঝুকেগা নেহি।” আরও একাধিক ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লিখেছেন, “দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স ডাকুন” কিংবা “যোগ করতে গিয়ে বিয়োগ না হয়ে যান।”
যদিও এই সমালোচনা বা ট্রোলিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিশান্ত কুমার বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি, যোগাসনকে স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হওয়া উচিত। কেউ করতে চাইলে করবে, না চাইলে করবে না। এর জন্য কোনও নম্বরও থাকা উচিত নয়।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে এদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগাভ্যাসের আয়োজন করা হয়। কন্যাকুমারী থেকে লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ থেকে গুজরাট—দেশের প্রায় সব রাজ্যেই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যোগ দিবস পালিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে কলকাতার রেড রোডে যোগাসনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।


