বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। দলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি কালীঘাটে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর সেই চাপা ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনে খারাপ ফলের পর তৃণমূলের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলের অনেক বিধায়ক ও নেতা মনে করছেন, শুধু বৈঠক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মানুষের মধ্যে গিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে কয়েকজন বিধায়ক সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটে হারের পর দলের নেতাদের রাস্তায় নেমে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও বড় কর্মসূচি দেখা যায়নি। দলের অনেক কর্মী বিভিন্ন এলাকায় সমস্যার মুখে পড়লেও নেতৃত্বকে সরাসরি পাশে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার বিধানসভায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক। ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসেন তাঁরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন নেতা। তবে লক্ষণীয় বিষয়, দলের সব বিধায়ক সেখানে ছিলেন না। প্রায় ৫০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর বিরোধী আসনে বসার অভিজ্ঞতা দলের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনকে আবার শক্তিশালী করতে হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ধরনের তৎপরতা তেমনভাবে চোখে পড়ছে না।এদিকে দলীয় অন্দরে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে কেন এখনও কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বিধায়ক। সূত্রের দাবি, বৈঠকে এই বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কিও হয়েছে। কয়েকজন নেতা তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।দলের একাংশের মতে, এখনই সংগঠনকে মাটির সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করতে না পারলে ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও তৃণমূলের তরফে প্রকাশ্যে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ঘিরে দলের অভ্যন্তরে চাপা অস্বস্তি যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Popular Categories


