ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এবার নিজের দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নেওয়া যুদ্ধসংক্রান্ত অবস্থান এবং কড়া ভাষায় দেওয়া হুঁশিয়ারি নিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ বাড়ছে।
মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য প্রশ্ন তুলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়ার ফলে আদৌ দেশের কোনও লাভ হচ্ছে কি না। বিরোধী শিবির ডেমোক্রেটিক পার্টি তো বটেই, শাসক দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও ভিন্নমত প্রকাশ পাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে প্রশাসনের জন্য।
ডেমোক্র্যাট নেতা জ্যাক অচিনক্লস এক সাক্ষাৎকারে জানান, সামরিক দিক থেকে এই লড়াই সফল হয়নি। তাঁর মতে, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে আমেরিকার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণেও প্রভাব পড়ছে। এক ডেমোক্র্যাট সাংসদ রো খান্না স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এখনই সংঘর্ষ থামানো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, একদিকে ইরানকে দুর্বল বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন সেনারাই সেখানে আক্রমণের মুখে পড়ছে, এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় হুমকি দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবরোধ না তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। তাঁর সেই মন্তব্যে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি তাঁর নিজের দলের নেত্রী মার্জোরি টেলর গ্রিন-ও এই আচরণের সমালোচনা করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।
এদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের আচরণকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি ক্রিস মার্ফি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, এই যুদ্ধ বহু মানুষের প্রাণ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সংবিধানের ’25th Amendment to the US Constitution’ প্রয়োগের কথাও তোলেন, যা প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরানোর সুযোগ দেয়।
অন্যদিকে, ইরানও ট্রাম্পের হুমকিকে গুরুত্ব দেয়নি। দেশের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত বাড়লে গোটা পশ্চিম এশিয়া অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পাশাপাশি আমেরিকার অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।


