উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এবার এই কেন্দ্র থেকে সিপিএম-এর প্রার্থী হয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। রবিবার এলাকায় জোরকদমে প্রচারে নামেন তিনি। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।
প্রচারের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মীনাক্ষী জানান, তাঁদের এই প্রচার শুধুমাত্র ভোটে জয়ের জন্য নয়। তাঁর কথায়, রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসবের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এই প্রচার কোনও একক দলের উদ্যোগ নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা আরও বড় আকার নিচ্ছে। জীবিকা ও দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ রাস্তায় নামছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এই আন্দোলনই আগামী দিনে বড় পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে।
এদিন কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনেও সরব হন মীনাক্ষী। তাঁর অভিযোগ,বিজেপি নির্বাচন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত এবং চিন্তিত হয়ে পড়ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সম্ভাব্য সফর নিয়েও মন্তব্য করেন মীনাক্ষী। তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা অনেক আগেই সরেজমিনে দেখা উচিত ছিল। এখন এসে তেমন কোনও পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলেই তাঁর মত। উত্তরপাড়া কেন্দ্রটি এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। এখানে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন এনএসজি কম্যান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল, যেখানে একাধিক আসনে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফা নির্ধারিত হয়েছে ২৯ এপ্রিল। আর ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দল তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে এবং প্রচারেও গতি এসেছে।


