পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-কে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অভিযোগ ঘিরেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন, “দ্য বিবি ফাইলস” নামক একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর প্রভাব ছিল। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও এই সংঘর্ষে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও নাকি কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-এর হামলার পর থেকেই ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেই সময় থেকেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল আকার নেয়। কার্লসন দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘর্ষের সমালোচনা করে আসছিলেন। তাঁর তথ্যচিত্র প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
কার্লসনের দাবি, এই তথ্যচিত্রে একাধিক গোপন সাক্ষাৎকার ও তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তার পেছনে কারা প্রভাব ফেলেছেন। এমনকি কিছু পুরনো আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, নেতানিয়াহু নাকি অতীতে গাজ়া অঞ্চলে অর্থ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিলেন, যা পরে বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও এই টাকা সরাসরি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিগডোর লিবার্মান-ও অতীতে কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর মতে, কিছু সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই তথ্যচিত্রে ধনী মার্কিন-ইহুদি পরিবার, বিশেষ করে মিরিয়াম আডেলসন-এর মন্তব্যও উঠে এসেছে। তিনি নেতানিয়াহুর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কথা জানিয়েছেন এবং কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও ভাগ করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েল ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তাহলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই সংঘাতের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা বিশ্বের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, তথ্যচিত্র ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন মোড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।


