অরুণাচল প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু-কে ঘিরে। তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি এখন দেশের শীর্ষ আদালতের নজরে।
একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অভিযোগ করে জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাজ্যের সরকারি কাজের বড় অংশই মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় এক দশকে ১২৭০ কোটি প্রকল্পের দায়িত্ব আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের হয়।
সম্প্রতি এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সেন্ট্রাল বিউর অফ ইনভেস্টিগেশন-কে তদন্ত শুরু করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছরের মধ্যে দেওয়া সমস্ত সরকারি প্রকল্প ও বরাতের নথি খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধু কাজের বরাত দেওয়া নয়, সেই প্রকল্পগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, আর্থিক লেনদেন কীভাবে হয়েছে—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের একাধিক সদস্যের সংস্থা এই কাজগুলো পেয়েছে। এর মধ্যে তাঁর স্ত্রীর সংস্থা ছাড়াও আত্মীয়স্বজনদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কাছের আত্মীয়দের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে একটি জেলার বহু প্রকল্প একই গোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে সরব হয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সমস্ত কাজ নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে অরুণাচল প্রদেশে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সেই সময় থেকেই পেমা খাণ্ডু মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগেই এই ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। তবে সরকার তা মানতে নারাজ। আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া এই তদন্ত এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


