হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর এলাকার আলু চাষিদের পরিস্থিতি এ বছর অত্যন্ত দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। গজা গ্রামের এক চাষি জানান, তাঁদের পরিবার পুরোপুরি আলু চাষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মরসুমে চাষ করতে খরচ অনেক বেড়েছে, অথচ বাজারে সেই তুলনায় দাম মিলছে না। ফলে সংসার চালানো নিয়ে তিনি গভীর চিন্তায় পড়েছেন। অনেক ক্ষেতেই জমিতে উৎপাদিত আলু তুলেও লাভ হচ্ছে না, অনেকটা ফসল জমিতেই পড়ে রয়েছে।
একই ছবি পিয়ারাপুর গ্রামের কৃষকের কথাতেও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আলুর বাজার একেবারেই ভেঙে পড়েছে। মাঠে আলু থাকলেও তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। ক্রেতার অভাব এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে অনেকেই জমি বন্ধক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই এলাকায় বেশ কয়েকটি হিমঘর থাকলেও সেগুলির সুবিধা কৃষকেরা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, তারাই অধিকাংশ জায়গা দখল করে রাখছে। ফলে চাষিরা নিজেদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের সুযোগ হারাচ্ছেন।
একসময় উদয়নারায়ণপুর ও আশপাশের অঞ্চল আলু চাষে যথেষ্ট উন্নত ছিল। এখানে বিভিন্ন জাতের আলু উৎপাদন হতো এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও বিপণন করা গেলে চাষিরা ভালো লাভ পেতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।
এই অবস্থায় রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এলাকার সিপিএম প্রার্থী ষষ্ঠী মাজি গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সমস্যার কথা শুনছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সুযোগ পেলে চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং যাতে ন্যায্য দাম নিশ্চিত হয়, সেই দিকেও নজর দেওয়া হবে।


