গাজা ও পশ্চিম তীরে কাজ করা ৩৭টি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার উপর ইজরায়েলের নিষেধাজ্ঞায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে জানালেন রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার পথ আরও সংকীর্ণ করে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জীবন বাঁচানোর কাজে যুক্ত সংস্থাগুলিকে আটকে দেওয়া কোনওভাবেই আইনসঙ্গত নয়। এতে গাজার মানুষ এমন এক অবস্থার মুখে পড়ছেন, যেখানে ন্যূনতম খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয় পাওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইজরায়েল এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করে। জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে, বয়কটের সঙ্গে যুক্ত বা ইজরায়েলকে ‘ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকার করেনি, তাদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়। বরং গাজায় মানবিক সহায়তার পুরো ব্যবস্থাকেই ভেঙে ফেলার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যেই সেখানে খাদ্যের চরম অভাব, অপুষ্টি, ভেঙে পড়া হাসপাতাল ও স্কুল এবং শীতের প্রকোপে মানুষ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখনও পর্যন্ত ৫০০-র বেশি ত্রাণকর্মী এবং অন্তত ১,৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। ত্রাণ বহরে হামলা, কর্মীদের হেনস্থা এবং সংস্থাগুলিকে বদনাম করার ঘটনাও বেড়েছে। ইউনরাওয়া (UNRWA) সবচেয়ে বেশি আক্রমণের মুখে পড়লেও, অন্য সংস্থাগুলিও নিরাপদ নয়।
ডিসেম্বরের শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় খুব অল্প সংখ্যক তাঁবু গাজায় পৌঁছেছে। প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ এখনও শীত থেকে বাঁচার মতো আশ্রয় পাননি। ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে এবং হাইপোথার্মিয়ায় ইতিমধ্যেই শিশু-সহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের কথায়, “গাজা আজ এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যার বর্ণনা দেওয়ার মতো ভাষা আর নেই।” তাঁদের অভিযোগ, দখলদার শক্তি হিসেবে ইজরায়েলের কোনও অধিকার নেই ত্রাণ আটকে দেওয়ার। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই দখল অবৈধ।
তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে যাদের প্রভাব রয়েছে, তাদের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দাবি করা হয়েছে, কোনও শর্ত ছাড়াই গাজায় ত্রাণ পৌঁছনোর পথ খুলে দিতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে স্থল ও সমুদ্রপথে নিরাপদ করিডর তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের সতর্কবার্তা, যদি এই অবস্থায় দেশগুলি চুপ করে থাকে, তবে ভবিষ্যতে তার দায় তাদের উপরও পড়তে পারে। গাজায় মানুষের জীবন বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।


