উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলায় গরুর মাংস বহনের অভিযোগে আটক একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানাল আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর। ওইদিন পুলিশ একটি চেকপোস্টে মোহাম্মদ চাঁদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। পুলিশের দাবি ছিল, গাড়ি থেকে সন্দেহজনক মাংস উদ্ধার হয়েছে। এরপরই তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে গরু সংক্রান্ত আইন ভাঙার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরে এই ঘটনায় অস্ত্র আইন এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগও যুক্ত হয় বলে জানায় পুলিশ।
তবে আদালতে মামলার শুনানির সময় ভিন্ন ছবি সামনে আসে। আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, যে মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল, তা গরুর ছিল—এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। পশুচিকিৎসকের রিপোর্টেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয় যে, মাংসটি গরুর কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো কোনও চূড়ান্ত রিপোর্ট নেই।
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈনের একক বেঞ্চ জানায়, শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক নয়। আইনের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরীক্ষাগারের নিশ্চিত রিপোর্ট প্রয়োজন। সেই প্রমাণ না থাকায় গাড়ি আটক করাকে বেআইনি বলে মন্তব্য করে আদালত।
মোহাম্মদ চাঁদ আদালতে জানান, তাঁর পিক-আপ ভ্যানই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে গাড়িটি আটক থাকায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়, সাত দিনের মধ্যে তাঁকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়াও আদালত জেলা প্রশাসনের আগের নির্দেশ বাতিল করে তিন দিনের মধ্যে গাড়িটি মুক্ত করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করতে পারবে রাজ্য সরকার।

