উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় অবৈধ দখলদারির আড়ালে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল একটি বড় অভিযানে বিছাউলি গ্রামে একটি ইমামবাড়া এবং একটি ঈদগাহ ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, এই দুই নির্মাণই বেআইনি ভাবে সরকারি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় জেলা প্রশাসনের রাজস্ব দফতর। যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাঁচটি থানার পুলিশকর্মী এবং পিএসি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। গোটা এলাকা ঘিরে রেখে চারটি বুলডোজারের সাহায্যে ভাঙার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যে জমিতে এই নির্মাণগুলি ছিল, সেই জমি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। সেখানে গোবর ফেলার জায়গা এবং গবাদি পশুর চরার জন্য নির্দিষ্ট এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। ফলে ওই জমিতে কোনও স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা আইনবিরুদ্ধ।
উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিধি প্যাটেল জানান, বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তহসিলদারের আদালতে শুনানির পর দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই রাজস্ব দফতর ও পুলিশ একযোগে এই অভিযান চালায়।
প্রশাসনের দাবি, সবকিছু আইন মেনেই করা হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করাই ছিল এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। অভিযানের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে সম্ভল জেলায় সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে হওয়া উত্তেজনার পর প্রশাসন আরও সক্রিয় হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে নেওয়া একটি স্বাভাবিক অভিযান হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্তরে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি জমি দখল করে কোনও নির্মাণই বরদাস্ত করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চলবে।


