উত্তরপ্রদেশের মথুরার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগের ভিত্তিতে এক মুসলিম প্রধান শিক্ষককে হঠাৎ বরখাস্ত করায় শিক্ষকমহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নওঝিল ব্লকের একটি স্কুলে ঘটেছে। জানা গিয়েছে, স্কুল চত্বরে পড়ুয়াদের নামাজ পড়ার নিয়ম শেখানো হচ্ছে—এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগটি করেন স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর প্রধান শিক্ষক জান মুহাম্মদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কীর্তি জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুটি ব্লকের শিক্ষা আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক। তাঁদের বক্তব্য, কোনও প্রাথমিক তদন্ত বা প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ঠিক হয়নি। এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা মানে চাপের প্রভাব থাকতে পারে। আগে সঠিক যাচাই হওয়া দরকার ছিল।” প্রধান শিক্ষকের সমর্থকদের দাবি, বিষয়টি অযথা সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, কোনও ছাত্র বা অভিভাবক সরাসরি অভিযোগ করেননি। অভিযোগ এসেছে রাজনৈতিক মহল থেকে। গ্রামের এক অভিভাবক বলেন, “স্কুলে জোর করে কিছু করানো হয়েছে, এমন কথা আমরা শুনিনি।” এদিকে স্থানীয় সমাজকর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, অন্যান্য ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, কিন্তু এই ঘটনায় তড়িঘড়ি পদক্ষেপ কেন?


