পারস্য উপসাগর ও হরমুজ় প্রণালীর আকাশে নজরদারির দায়িত্বে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ড্রোন হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০ কোটির মার্কিন ডলারের এই এক একটি ড্রোনের হদিশ না মেলায় ঘটনাকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ড্রোনটি দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি চালানোর পর ইতালির সিগোনেলা ঘাঁটির উদ্দেশে ফিরছিল। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও মাঝপথে আচমকা তার গতিপথে সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়। এরপরই ড্রোনটি থেকে জরুরি সঙ্কেত পাঠানো হয়। সাধারণত বিপদের সময় এই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়, যা থেকে বোঝা যায় যে যন্ত্রটিতে কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
তথ্য বলছে, জরুরি সঙ্কেত পাঠানোর পর ড্রোনটি ধীরে ধীরে নীচে নামতে শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষবার সেটিকে হরমুজ় প্রণালীর আকাশে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ মেলেনি। সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, নাকি অন্য কোনও কারণে ভূপাতিত হয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ড্রোনটি মার্কিন বাহিনীর অন্যতম ব্যয়বহুল নজরদারি যন্ত্র বলে জানা গিয়েছে। একটি ড্রোন তৈরিতে বিপুল অর্থ খরচ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থেকে তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা রয়েছে এর। উচ্চ আকাশে উড়ে চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্যই মূলত এটি ব্যবহার করা হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নজর রাখার কাজেই এটিকে মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে, এই ঘটনার সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছিল। এমনকি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টাও চলছিল। তার মধ্যেই এই ড্রোন নিখোঁজের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও চাপে পড়তে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। ফলে ঠিক কী কারণে এই ড্রোনটি হারিয়ে গেল, তা জানতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


