তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত টিভিকে-র প্রথম মন্ত্রিসভায় দেখা গেল অভিজ্ঞতা ও নবীনতার এক মিশ্র ছবি। দলের এই মন্ত্রিসভা গঠনে এমন কিছু মুখ রাখা হয়েছে, যারা রাজনীতির পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সংগঠন গঠনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। এতে স্পষ্ট, নতুন সরকার শুরু থেকেই ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে চাইছে।এই মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এন আনন্দ, যিনি বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। পুদুচেরি থেকে উঠে এসে তিনি বিভিন্ন দলে কাজ করেছেন এবং পরে বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা নেন। বিশেষ করে, ভক্তদের সংগঠনকে রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপান্তর করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য কে এ শেঙ্গোট্টাইয়ান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। বহু বছর একটি বড় আঞ্চলিক দলে থাকার পর তিনি সম্প্রতি টিভিকে-তে যোগ দেন। তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন সরকারকে প্রশাসনিক দিক থেকে সহায়তা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক দক্ষতার দিক থেকেও এই মন্ত্রিসভা পিছিয়ে নেই। কেজি অরুণ রাজ, যিনি আগে কেন্দ্রীয় কর দফতরের আধিকারিক ছিলেন, তিনি এখন মন্ত্রিসভার অংশ। চিকিৎসা বিদ্যা থেকে শুরু করে সরকারি প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তদন্তে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর দক্ষতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন আধব অর্জুন। রাজনৈতিক কৌশল এবং সংগঠন গঠনে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যুব সমাজকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে সিটিআর নির্মল কুমারও বিভিন্ন দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে টিভিকে-তে এসে নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে রয়েছেন পি বেঙ্কটরামানন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিজয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা দলের সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে সাহায্য করবে।এছাড়া, রাজমোহন নামে এক জনপ্রিয় ইউটিউব নির্মাতাকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে, যিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন। অন্যদিকে, সমাজসেবার জন্য পরিচিত চিকিৎসক টি কে প্রভুকেও এই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।সবচেয়ে নজর কেড়েছেন তরুণ নেত্রী এস কীর্তনা। তিনি প্রথমবারের বিধায়ক হলেও ইতিমধ্যেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক কৌশলের অভিজ্ঞতা তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব এনে দিয়েছে। বিজয়ের এই মন্ত্রিসভা পুরনো অভিজ্ঞতা ও নতুন ভাবনার এক সমন্বয়, যা ভবিষ্যতের প্রশাসনে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Popular Categories


