শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়ছেন বিশিষ্ট কবি ওয়াজেদ আলী (৭৭)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থানার কমলপুর গ্রামে বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেছিলেন। বছর খানেক আগে খাট থেকে পড়ে কোমরে গুরুতর চোট পান। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে যায়।
দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি ওয়াজেদ আলী বহু বছর ধরে সাপ্তাহিক দেশসহ বিভিন্ন বাংলা পত্রিকায় নিয়মিত লিখেছেন। তিনি ধ্বনি তরঙ্গ নামক একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন এবং আকাশবাণী কলকাতা থেকে নিয়মিত কবিতা পাঠ করতেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রিয়জনের সুখ’ প্রকাশের পর, পরে ‘সুন্দরী গাছের নিচে’ নামক একটি সাহিত্যকর্ম ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এছাড়া সুন্দরবনভিত্তিক আধুনিক কবিতার সংকলনও তিনি প্রকাশ করেছেন।
২০০৭ সালে প্রকাশিত তার ‘রক্তঝরা নন্দীগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থটি নন্দীগ্রাম গণহত্যার পর বাংলা সাহিত্যে প্রতিবাদী কবিতার ধারাকে নতুন দিশা দেয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কবিদের অন্যতম কণ্ঠস্বর। বর্তমানে অসুস্থ কবির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাহিত্যিক ও কবিরা তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এলাকার সাহিত্যপ্রেমীরা আশা করছেন, সুস্থ হয়ে তিনি আবার পাঠক ও কবি সমাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন। ওয়াজেদ আলীর সাহিত্যকর্ম এবং প্রতিবাদী কবিতার অবদান বাংলা সাহিত্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


