প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের পর শুক্রবার বিকেল থেকেই রাজ্যে পুনর্নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে রাতেই সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় বাংলার ১৫২টি বিধানসভার মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। ফলে পুনর্নির্বাচনের কোনও প্রয়োজন নেই।
একইসঙ্গে কমিশন জানায়, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ৭৫ হাজার ৬৪টি বুথেও ফের ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ছে না। সামগ্রিকভাবে ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি কমিশনের।
বাংলার নির্বাচনে অশান্তির ইতিহাস নতুন নয়। অতীতে বহু নির্বাচনে বোমাবাজি, সংঘর্ষ এমনকি খুনের ঘটনাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় একাধিক অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল।
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ভোটের ধারা দেখা যায়। ভোট বা ভোট-পরবর্তী হিংসায় কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। সেই অভিজ্ঞতাকেই সামনে রেখে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই কড়া নজরদারি চালায় নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের তরফে ভোটের দায়িত্বে থাকা সমস্ত আধিকারিককে শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কোথাও সামান্য অশান্তি ঘটলেও পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
যদিও প্রথম দফার ভোটে দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া তেমন বড় কোনও অশান্তির খবর নেই। ফলে প্রথম দফার পর ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন। তাই নতুন করে ভোট নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন। খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্রশংসা করেছেন। সেই কারণেই পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন।


