শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানার বিষয়ে রাজ্য সরকার বুধবার সুপ্রিম কোর্টে জানায়, তারা সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) বাবদ মোট ৬ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মচারীদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল এবং বাকি ৭৫ শতাংশ ধাপে ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত স্পষ্টভাবে বলেছিল, কর্মচারীদের ডিএ একটি আইনি অধিকার এবং তা যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে। সেই অনুযায়ী মার্চ মাসের শেষে প্রথম কিস্তি দেওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বাকি অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, তা দেখার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
বুধবার এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্রের বেঞ্চে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুটা বকেয়া পরিশোধ করেছে। সরকার একটি নতুন আবেদনপত্র ও অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দেয়। তবে সেই নতুন আবেদন আদালতের নথিতে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় বিচারপতিরা তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি।
এদিকে, রাজ্যের এই খরচের হিসাব নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আগে তৃণমূল সরকারই জানিয়েছিল, সমস্ত বকেয়া ডিএ মেটাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। সেই হিসেবে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লাগার কথা। ফলে ৬ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা খরচের দাবি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুসরণ করার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য আদালতে নিজেদের তৈরি মূল্যসূচক ব্যবহারের কথা বলেছে, যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের আলাদা করে দিয়েছে। উচ্চপদস্থদের বকেয়া অর্থ তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের আগে তোলা যাবে না। অন্যদিকে, নিম্নপদস্থ কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই দাবি করছেন, তাঁরা মোট প্রাপ্যের অর্ধেকেরও কম পেয়েছেন।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ মে নির্ধারিত হয়েছে। আদালত আবেদনকারী সংগঠনকে তাদের সমস্ত অভিযোগ কমিটির সামনে উপস্থাপন করতে বলেছে। কর্মচারী সংগঠনের দাবি, সরকার এখনও পর্যন্ত পুরো নির্দেশ পালন করেনি এবং প্রকৃত প্রাপ্য থেকে অনেকটাই কম দেওয়া হয়েছে।


